ঝড়-শিলাবৃষ্টির পর দাম বিপর্যয়ের আশঙ্কায় চিত্তুরের আম চাষিরা

পুরোদমে আম সংগ্রহ ও কেনাবেচার মৌসুম যখন গতি পেয়েছে, ঠিক তখনই প্রাক-মৌসুমি ঝড়-হাওয়া, শিলাবৃষ্টি এবং বাজারে দামের তীব্র ধসের কারণে চরম লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন ভারতের রায়ালসীমা অঞ্চলের আমসমৃদ্ধ চিত্তুর, তিরুপতি ও আন্নামাইয়া জেলার চাষিরা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু এ খবর জানিয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহে বয়ে যাওয়া তীব্র বাতাস এবং শিলাবৃষ্টির কারণে আমের বাগানগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে মণ্ড প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের প্রধান লক্ষ্যবস্তু তোতাপুরী জাতের আম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাগান মালিক ও চাষিরা গাছ থেকে ঝরে পড়া আম সংগ্রহ করে বেসরকারি বাণিজ্য কেন্দ্র এবং বাজারের র‍্যাম্পগুলোতে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে চাষিদের ক্ষোভ, সেখানে তাদের প্রতি কেজি আমের দাম দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২ রুপি। এমনকি গাছ থেকে পাড়ার জন্য প্রস্তুত সুস্থ-সবল ভালো মানের আমও প্রতি কেজি ৫ রুপির বেশি দাম পাচ্ছে না।

চাষিরা ভয় পাচ্ছেন, এবারও হয়তো ২০২৫ সালের চরম মূল্য সংকটের পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে। গত বছর আমের দাম প্রতি কেজি ৪ রুপির নিচে নেমে গিয়েছিল। তখন শত শত চাষি ট্র্যাক্টর ও লরি বোঝাই আম নিয়ে পাল্প কারখানাগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যার ফলে মহাসড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল এবং আম উৎপাদনকারী গ্রামগুলোতে ব্যাপক হাহাকার নেমে এসেছিল।

চিত্তুর আম উৎপাদনকারী সমিতির সভাপতি কোথুর বাবু বলেন, এই দামে আমাদের বেঁচে থাকা অসম্ভব। বাগানের রক্ষণাবেক্ষণ, শ্রমিক, সেচ, ফসল সুরক্ষা এবং পরিবহনের পেছনে যে খরচ হয়, তা বিবেচনা করলে তোতাপুরী আমের উৎপাদন খরচ তুলতে বা লোকসান এড়াতে চাষিদের প্রতি কেজিতে অন্তত ১২ থেকে ১৫ রুপি পাওয়া প্রয়োজন।

গত বছর মণ্ড প্রস্তুতকারকেরা জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছিল যে, রফতানি চাহিদা কম থাকায় তাদের কাছে দুই লাখ টনেরও বেশি অবিক্রিত মণ্ড জমা পড়ে আছে। ফলে তখন সংগ্রহের মূল্য প্রতি কেজি প্রায় ৪ রুপি নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে রাজ্য সরকার চাষিদের স্বস্তি দিতে প্রতি কেজিতে আরও ৪ রুপি অতিরিক্ত প্রণোদনা দিয়ে হস্তক্ষেপে বাধ্য হয়।

চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল মাসে কারখানার প্রতিনিধিরা দাবি করেন যে, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে উপসাগরীয় এবং ইউরোপীয় দেশগুলোতে রফতানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং ১ হাজার কোটি রুপিরও বেশি মূল্যের লেনদেনের ক্ষেত্রে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

তবে এই মৌসুমে চাষি নেতারা শিল্প মালিকদের এই দাবি খণ্ডন করে জানিয়েছেন, বর্তমানে আগের অবিক্রিত মণ্ড মজুতের পরিমাণ মাত্র কয়েক হাজার টন। তাই বর্তমান বাজার পরিস্থিতি কোনোভাবেই সংগ্রহ মূল্য কমানোর যৌক্তিকতা নেই।

উল্লেখ্য, বর্তমানে সম্মিলিত চিত্তুর জেলাজুড়ে প্রায় ৩ লাখ একর জমিতে আমের আবাদ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *