ঝোলাভরা রাজাকার থাকলে দুই-একজন মুক্তিযোদ্ধাকে অস্বীকার করা হয় না

গাইবান্ধা-৪ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার বলেছেন, “গোলাভরা ধান থাকলে পাতানকে যেমন অস্বীকার করা হয় না, ঝোলা ভরা রাজাকার থাকলে দুই-একজন মুক্তিযোদ্ধাকে অস্বীকার করা হয় না।” ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৯তম দিন বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকালে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় বিরোধী দলের সমালোচনা করে এসব কথা বলেন তিনি।
শামীম কায়সার বলেন, “স্পিকার আপনার মাধ্যমে আমি তথ্যমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রী মহোদয়কে স্পষ্টভাবে বলতে চাই— ফ্যাক্ট এবং ন্যারেটিভের মধ্যে অনেক অসঙ্গতি আছে। বর্তমান যে জেনারেশনটা চলছে, আমাদের ফ্যাক্ট এবং ন্যারেটিভের কানেক্টিভিটি দরকার। আমরা ইশতেহার বাস্তবায়ন করবো। বাজারে ন্যারেটিভ আছে, এর জন্যই কি আমরা যুদ্ধ করেছি? আন্দোলন করেছি? এই মহান সংসদে মাথার ওপর বিসমিল্লাহ দুয়ারে দুয়ারে, সর্বশক্তিমান আল্লাহ এখানে। এতগুলো দাড়িটুপির মধ্যে আমাদের এখানে আলাদা করে বারবার ধন্যবাদ আসার কথা ছিল। এটা অনেক বড় একটা ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে। ফ্যাক্ট এবং ন্যারেটিভের মধ্যে যদি যোগসাজশ না করা যায়, অনেক সমস্যা। এই জেনারেশনকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। দেখুন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালনের জন্য দাঁড়িয়ে আছি। অথচ, অবৈধ আদেশ নিয়ে সারাক্ষণ কথা হচ্ছে বাজারে বাজারে।”
তিনি আরও বলেন, “সেই তারা ভরা রাতে আমরা অনেক চেষ্টা করেও পারিনি বুঝাতে এই জুলাই সনদের কথা। অনেক বিতর্ক হয়েছে, উনারা বলে গেছেন, শুধু এই অবৈধ আরোপিত আদেশের কথা। সেদিন রাতে আসলেই তারা ছিল, পরের দিন ওয়াকআউটের পরে দেখলাম যে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে।”
প্রশ্ন রেখে এই সংসদ সদস্য বলেন, “রাষ্ট্র কি কথা বলে? রাষ্ট্র কি সিজদা দেয়? তাহলে রাষ্ট্রভাষা কি আর রাষ্ট্রধর্ম কি? অধিকাংশরা যেটা করে সেটাই হল ভাষা। এ কারণে অন্য ভাষা, অন্য ধর্মকে খাটো করা হয় না। গোলাভরা ধান থাকলে পাতানকে যেমন অস্বীকার করা হয় না, ঝোলাভরা রাজাকার থাকলেই দুই-একজন মুক্তিযোদ্ধাকে অস্বীকার করা হয় না।”
বিরোধী দলের সমালোচনা করে এই সংসদ সদস্য বলেন, “শৈবাল দীঘিরে কহে উচ্চ করি শির, লিখে রেখো এক ফোঁটা দিলেম শিশির, তেলাপোকার পাখা আছে হোক সে বধির, মরিবার আগে করিতে চায় কিচির-মিচির।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *