জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দু’টি আসন পেয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তাদের দুই প্রার্থীর মধ্যে একজন বাধা উতরে গেলেও সাময়িকভাবে স্থগিত হয়েছে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই প্রার্থীর প্রার্থিতা স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিষয়টি নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, “যেহেতু এক ধরনের আইনি জটিলতার তৈরি হয়েছিল, সে জায়গা থেকে আমরা বিকল্প একজনকে মনোনয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। মাত্র প্রক্রিয়া শুরু হলো, আপিল ও রিটের সুযোগ আছে। আশা করি সম্ভবত আগামী ২৯ তারিখ ফাইনাল ডেট। সেদিন হয়তো জানতো পারবো, আসলে কি হচ্ছে। আশা করি, সমাধান হয়ে যাবে।”
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকাল ৫টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি সাংবাদিক ইমরান হোসেনকে দেখতে গিয়েছিলেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, “আমরা জাতীয় নির্বাচনে দেখেছি, কীভাবে বিদেশি নাগরিক ও ঋণখেলাপিরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তখন ইসি অসহায়ের মতো বলেছে, আমাদের বুকে পাথর চাপা দিয়ে দিতে হয়েছে, সেটা খুবই দুঃখজনক। তিন বছরের জটিলতা ঋণখেলাপি অথবা বিদেশি নাগরিকত্বের মতো কঠিন কোনও জটিলতা না। তারপরও আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। নিয়মনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সে জায়গা থেকে নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত দেবে চূড়ান্ত আইন অনুযায়ী, সেটাই আমাদের জায়গা থেকে মেনে নেবো। সেক্ষেত্রে, অন্যান্য অপশন নিয়ে আমরা কাজ করবো।”
সাংবাদিক ইমরান হোসেনকে নিয়ে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, “আমার দেশ পত্রিকার সাংবাদিক ভাইকে দেখার জন্য এসেছি। তার সার্বিক খোঁজ-খবর নিতে এসেছি। আপনারা জানেন, তিনি গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার সুস্থ হতে আরও অনেক সময় লাগবে।”
এনসিপি সব সময়ই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলে জানিয়ে তিনি বলেন, “বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছে, ওয়েজবোর্ড নিয়ে, বেতনের কাঠামো নিয়ে। আমরা কিন্তু আগে থেকেই এগুলো নিয়ে কথা বলে আসছি, কাজ করে আসছি। সাংবাদিকদের ওয়েল ফেয়ার নিশ্চিতে হাউজগুলোতে কথা বলেছি। আমাদের জায়গা থেকে যতোটুকু পারা যায়, সহযোগিতা সমর্থন ও সহমর্মিতা দিয়ে পাশে থাকার চেষ্টা করছি।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, “সকল ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় থাকুক। ছাত্র রাজনীতি মেধার দিক থেকে প্রতিযোগিতার রাজনীতিতে পরিণত হোক। বিভিন্ন ক্যাম্পাসে বড় দুই রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে শীতলযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি আছে। ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যকার শীতলযুদ্ধ সহিংসতার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না।”