বৃষ্টির প্রভাব নেই সবজিতে, আমিষের বাজারে বাড়তি চাপ

টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জনজীবন কিছুটা ব্যাহত হলেও রাজধানীর কাঁচাবাজারে এর তেমন প্রভাব পড়েনি। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় অধিকাংশ সবজির দাম এখনও ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। তবে স্বস্তির এই চিত্র নেই আমিষের বাজারে। ডিম, মাছ ও মুরগির ঊর্ধ্বমুখী দামে বাড়তি চাপ পড়েছে সাধারণ মানুষের ওপর। এর মধ্যে গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দাম প্রতি ডজনে বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। পাশাপাশি মাছ ও মুরগির দামও রয়েছে তুলনামূলক বেশি।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর রায়সাহেব বাজার, নারিন্দা কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ডিমের বাজারে অনেক প্রশ্ন

 

বাজারে বর্তমানে ফার্মের (ব্রাউন) ডিম প্রতি ডজন ১২০ থেকে ১৩০ টাকা এবং সাদা ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত সপ্তাহেও একই ডিমের দাম ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। ব্যবসায়ীদের দাবি, খামার পর্যায়ে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার প্রভাবে ডিমের দাম বেড়েছে।

20 February 2026 || আজকের ব্রয়লার ও সোনালী মুরগির পাইকারি দাম জানুন |  আজকের মুরগির বাজার দর জেনে নিন | আমরা পোল্ট্রি খামারী | Facebook

মুরগির বাজারেও রয়েছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। পাকিস্তানি সোনালি মুরগির কেজি ৩২০-৩৩০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৩০-৩৪০ টাকা। পাকিস্তানি হাইব্রিড জাতের মুরগি ২৮০-৩০০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩১০-৩২০ টাকায়। পাকিস্তানি লেয়ার মুরগির দাম গত সপ্তাহের মতোই ৩৩০-৩৪০ টাকা রয়েছে। আর দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে।

মুরগি বিক্রেতা মো. মাসুদ হোসেন বলেন, ‘‘টানা বৃষ্টির কারণে বাজারে ক্রেতা কিছুটা কম এসেছে। তবে মুরগির সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। খামার থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই খুচরা বাজারেও দাম কিছুটা বেশি রাখতে হচ্ছে।’’

সরবরাহ সংকটে মাছের দাম বাড়তি

মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। বড় আকারের রুই বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, চিংড়ি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, ট্যাংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, কৈ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায়। আর এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা। তবে চাষের তেলাপিয়া, পাঙাশ, শিং ও মাঝারি আকারের রুইয়ের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।

মাছ বিক্রেতা মো. শাহ আলম বলেন, ‘‘টানা বৃষ্টির কারণে বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তবে মাছের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট নেই। কিছু দেশি মাছ ও ইলিশের সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় সেগুলোর দাম বেশি। চাষের তেলাপিয়া, পাঙাশ ও মাঝারি রুইয়ের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল আছে। আমরা পাইকারি বাজার থেকে যে দামে মাছ কিনছি, সেই অনুযায়ীই বিক্রি করছি।’’

বাংলাদেশের 🇧🇩 সবজি বাজার / তাজা শাক সবজি / বাংলাদেশের কাচা বাজার /  Vegetable Market in Bangladesh

অন্যদিকে, বৃষ্টির মধ্যেও সবজির বাজারে সরবরাহে কোনও ঘাটতি দেখা যায়নি। বিভিন্ন জেলা থেকে নিয়মিত সবজি আসায় বাজারে স্বস্তি বজায় রয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা, উচ্ছে ৪০ টাকা, পটোল ৫০ টাকা, কুমড়া ৪০ টাকা, আলু ৩০ টাকা, পেঁপে ২০ থেকে ৪০ টাকা, শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা এবং করলা ৭০ টাকায়। অধিকাংশ সবজিই ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

তবে আমদানিনির্ভর টমেটোর দাম এখনও অনেক বেশি। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ৩০০ টাকায়, যা সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে। এছাড়া বৃষ্টির প্রভাবে বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা।

ঈদ ঘিরে মসলার বাজার গরম

 

মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। দেশি রসুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, আমদানিকৃত রসুন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা এবং আদা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রায়সাহেব বাজারে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী মো. নাজমুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘‘টানা বৃষ্টির কারণে ভেবেছিলাম সবজির দাম অনেক বেড়ে যাবে। কিন্তু বাজারে এসে দেখলাম বেশির ভাগ সবজির দাম আগের মতোই আছে। তবে ডিম, মাছ আর মুরগির দাম বেড়ে যাওয়ায় মোট বাজার খরচ কমেনি।’’

নারিন্দা কাঁচাবাজারে আসা ক্রেতা আব্দুল কাদের বলেন, ‘‘বৃষ্টির কারণে বাজারে ক্রেতা কিছুটা কম ছিল। তবে পণ্যের সরবরাহে তেমন সমস্যা দেখিনি। সবজি কিনতে স্বস্তি পেলেও মাছ, মুরগি আর ডিমের দাম এখনও বেশি। বিশেষ করে ইলিশ ও অন্যান্য দেশি মাছ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।’’

ব্যবসায়ীরা জানান, টানা বৃষ্টির মধ্যেও বিভিন্ন জেলা থেকে নিয়মিত সবজি আসায় সরবরাহে কোনও সংকট তৈরি হয়নি। তবে খামার পর্যায়ে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কিছু ক্ষেত্রে সরবরাহ কম থাকায় ডিম ও মুরগির দাম তুলনামূলক বেশি রয়েছে। একই সঙ্গে নদীতে দেশি মাছের সরবরাহ কম থাকায় বেশ কয়েকটি মাছের দাম এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, নতুন বাজেট কার্যকরের প্রভাবে মসলাসহ কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে বাজারে আরও কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে বলে আশা করছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *